একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে পাবে PDF Print E-mail
Written by Administrator   
Sunday, 14 October 2012 11:10

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে পাবে
মুন্সীগঞ্জে উঠান বৈঠক প্রত্যক্ষ করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ এমিলি, বিশ্বব্যাংক ও জাইকার প্রতিনিধি

(উৎস্য: দৈনিক জনকন্ঠ, শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১২, ২৮ আশ্বিন ১৪১৯)


মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥

মুন্সীগঞ্জের চুরাইন গ্রামের ‘চুরাইন গ্রাম উন্নয়ন দল সমিতি’র ম্যানেজার নাসিমা বেগমের মুখে এখন সাফল্যের হাসি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনীর চুরাইন গ্রামে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে ব্যস্ত গ্রামের নারী-পুরুষ। সাপ্তাহিক এমন বৈঠকেই ঋণ পরিশোধ ঋণ গ্রহণসহ নানা সমস্যার সমাধান নিয়ে আলাপচারিতার মাধ্যমে আত্ম-নির্ভরশীলতা অর্জন করছেন। ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে খুব সহজেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন সবই হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
চুরাইন গ্রাম উন্নয়ন দল সমিতির সভাপতি ফাতেমা বেগম বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় সমিতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে তার পরিবারের চেহারা পাল্টে গেছে।
সরেজমিন এই উঠান বৈঠক প্রত্যক্ষ করলেন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ এমিলি, বিশ্বব্যাংক ও জাইকা প্রতিনিধি এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, সচিব, প্রকল্প পরিচালক এবং জাতীয় সংসদের হুইপসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জে বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের চুরাইন গ্রামে ‘চুরাইন গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’র আয়োজনে এই উঠান বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত হন। উঠান বৈঠকে সমিতির সভাপতি রেহেনা বেগমের সভাপতিত্বে সমিতির সদস্য, দাতা সংস্থার অন্য প্রতিনিধিরা ছাড়াও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন সমিতির ব্যবস্থাপক নাসিমা বেগম। এই উঠান বৈঠকে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম দেখানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত সকলকে সরাসরি কিভাবে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হয় তা সরাসরি দেখানো হয়। উঠোন বৈঠকে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা (ইউআইএসসি) কিভাবে সমিতির সদস্যদের সঞ্চয় আদায় করেন তা লেপটপ দিয়ে এবং মোবাইল থেকে মেসেজ প্রদান করে সকলকে দেখান। জাইকার প্রতিনিধি শিযুকা নাকানো বলেন, আমি অভিভূত। সবার সহযোগিতায় আরও উন্নতি হবে। মুন্সীগঞ্জ জেলায় ২১৬টি সমিতির তেরো হাজার পরিবার এখন এই প্রকল্পের মাধ্যমের স্বাবলম্বী। দারিদ্র্য হ্রাস করে দেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরকল্পে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার দেশকে মাইক্রো সেভিংসের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামকে সকল অর্থনৈতিক কর্মকা-ের মূলভিত্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৬শ’ ৪০টি গ্রামের ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪শ’ সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে দুধেল গাভি, গৃহনির্মাণ সামগ্রী, শাকসবজি, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি বিতরণ করা হয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাস করে দেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরকল্পে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে হতদরিদ্র মানুষ তাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে। দরিদ্র মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের মুক্তির পথ খুঁজে পাবে। একদিন বাংলাদেশ দরিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি বলেন, বর্তমান সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে যাচ্ছে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর ঘটিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান সম্পদের সাথে পুঁজি শ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েই জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। সরকার দেশকে মাইক্রো সেভিংসের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ।
জাহাঙ্গীর কবির নানক যুব সমাজ ও ছাত্র সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকে যুব সমাজ ও ও ছাত্র সমাজের সামনে সময় এসেছে সমবায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আপনারা সমবায়ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলুন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সেই বাঙালী জাতি, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিলাম। আমরা বাংলাদেশ ৪১ বছর পার করেছি। কিন্তু প্রতিবারই অশুভ শক্তি ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেছে। আমরা সেই জাতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা জঙ্গীবাদকে পরাভূত করে একটি শান্তির ও সহবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছি। আজকে আমরা দেশে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছি।
তিনি আরও বলেন, একটি বাড়ি একটি খামারের মাধ্যমে আমরা প্রথম বছরে ১০ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় বছরে ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় বছরে আরও বৃদ্ধি করা হবে। আমরা সেই স্বপ্ন নিয়েই আপনাদের মাঝে আজকে এসেছি। আলোচনাসভা শেষে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছেন এমন ১০ জন সেরা উদ্যোক্তাকে প্রতিমন্ত্রী তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মুন্সীগঞ্জের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মহিউদ্দিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদার, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল মিয়া, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারী হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিসুজ্জামান আনিস, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল।

Last Updated on Sunday, 14 October 2012 11:17